ক্ষমতা দখল এক জিনিস, আর সেই ক্ষমতা দখলে রাখা আরেক জিনিস। যা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মুহাম্মদ ইউনূস। প্রথমে জুন-জুলাইয়ের সহিংস আন্দোলন, ঝাঁকে ঝাঁকে গণহত্যা, এরপর ৫ আগষ্টের গণ অভ্যেয়ুত্থান। বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় এবং ক্ষমতায় আসে এক তদারকি সরকার। যার নেতৃত্বে আবার আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন অর্থনীতিবিদ তথা শান্তির নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু আসর্যজনকভাবে এর পর থেকে বাংলাদেশে নিখোঁজ শান্তি। সেখানে কেবলই অশান্তির বাতাবরণ, অরাজকতা ও সংখ্যালঘু নিপীড়নের ঘটনার ঘনঘটা। একদিকে কট্টরপন্থী মৌলবাদী মুসলিম সংগঠনগুলির আস্ফালন, অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের পেশী প্রদর্শন। সবমিলিয়ে কেমন যেন অসহায় ইউনূস সাহেব। এবার কর্মবিরতিতে চলে গেলেন বাংলাদেশ রেলের রানিং স্টাফরা। সেই সঙ্গে ঢাকার সাতটা কলেজের পড়ুয়ারা নেমেছে তীব্র আন্দোলনে। অন্যদিকে শেখ হাসিনা ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সাহায্য বন্ধ করা। ইউনূস সাহেব এখন কোথায় যাবেন, কি করবেন, সেটাই ভেবে পাচ্ছেন না।
রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মবিরতিতে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ বাংলাদেশে। এর ফলে ভোগান্তির শিকার লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ। সোমবার সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ স্টেশনে পৌঁছে জানলেন ট্রেন চলবে না। যারা আগাম খবর পেয়েছিলেন, তাঁরা সড়কপথ ধরতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন। অন্যদিকে ট্রেন বন্ধ থাকায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। পরে তাঁরা টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে রেলস্টেশন ছাড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সেনাবাহিনীর সাহায্য নিতে হয় রেল কর্তৃপক্ষকে। উল্লেখ্য, রাজশাহী স্টেশন থেকে সোমবার রাতে কোনও ট্রেন ছিল না। কিন্তু মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন গন্তব্যের ছয়টি ট্রেন ছিল। ফলে যাত্রীরা স্টেশনে এসে পড়েন এবং জানতে পারেন কোনও ট্রেনই ছাড়বে না। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীরা। জানা যাচ্ছে, গোটা বাংলাদেশেই ট্রেন বন্ধ থাকায় বিক্ষিপ্ত গোলমাল হয়েছে।
সূত্রের খবর, মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স বা ভাতা যোগ করে পেনশন প্রদান এবং অন্যান্য কিছু সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে জটিলতার নিরসন না হওয়ায় সোমবার মধ্যরাত থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন রেলওয়ের রানিং স্টাফরা। এতে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এই রানিং স্টাফরা হলেন গার্ড, ট্রেনচালক বা লোকোমাস্টার, সহকারী চালক ও টিকিট পরিদর্শক বা টিটিই। যার ফলে ট্রেন চালানো একেবারেই সম্ভব হয়নি।
অপরদিকে গত রবিবার রাত থেকে ঢাকার নীলক্ষেত মোড় এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এই বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দফায় দফায় এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন পড়ুয়া আহত হন। সোমবার সকাল থেমেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ বিক্ষোভ চালায় সাতটা কলেজের পড়ুয়ারা। যা নিয়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় রাজধানী শহরে। সূত্রের খবর, সাত কলেজের পড়ুয়াদের দাবির কাছে কিছুটা নত হয়েছে তদারকি সরকার। জানা যাচ্ছে, ঢাকার বড় সাতটি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন থাকছে না। এই কলেজগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্মানজনক পৃথক্করণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৪-২৫ সেশন থেকে সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ভর্তি করা হবে না।
বাংলাদেশ এখন কার্যত মগের মুলুক। যে কোনও দাবিদাওয়া নিয়ে এখন বাংলাদেশে আন্দোলনের ধুম লেগেছে। কখনও পড়ুয়ারা, কখনও বস্ত্র শ্রমিকরা, কখনও পায়ে টানা রিকশা বা ব্যাটারি চালিত রিকশা চালকরা আন্দোলন করছেন। এবার তীব্র আন্দোলনে নামলেন বাংলাদেশ রেলের রানিং স্টাফরা। যার জেরে স্তব্ধ গোটা বাংলাদেশের রেল চলাচল। বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, এই অবহে মার্কিন অর্থ সাহায্য বন্ধ হয়ে গেল ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে। অপরদিকে বিশ্বব্যাঙ্কের শর্ত মেনে ভ্যাট বৃদ্ধি করতে হয়েছে শতাধিক পণ্যে। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এদিকে রেলের রানিং স্টাফদের দাবি মানতে হলে বাড়তি বোঝা চাপবে রাজকোষে, সেটাও এখন আরেক বিড়ম্বনা। ফলে দেশ ছেড়ে পালতে পারলে বাঁচবেন মুহাম্মদ ইউনূস।











Discussion about this post