বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালা বদল হয়েছে আট মাস আগে। ক্ষমতার অলিন্দে নোবেল জয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি ক্ষমতায় থাকার পরও বাংলাদেশে অরাজক পরিস্থিতি অব্যাহত। এখন পদ্মাপাড়ে চলছে ইউনূস বিরোধী স্লোগান। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের ক্ষমতা এবার কি সেনাবাহিনীর হাতে চলে গেল? এই কথা হঠাৎ বলছি তার কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি ছবি। বাংলাদেশের রাস্তায় হাজার হাজার পদাতিক বাহিনী। সেনারা মুক্ত হস্তে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সিদ্ধহস্তে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের বাহিনী। যদিও সেই ভিডিও সত্যতা যাচাই করেন নিউজ বর্তমান।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটা দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের রাস্তা দখল করেছে সেনা। তবে কি এবার সেনা শাসনের ইঙ্গিত? যদিও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এখন সেই পথে হাঁটবেন কিনা, সেটা বলা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের সেনাপ্রধান এখন দেখছেন, কিভাবে সরকারের প্রশাসন কাজ করছে। ইউনূস কতটা সচেষ্ট। তবে প্রধান অতিষ্টের সঙ্গে সেনাপ্রধানের বৈঠকের পর থেকে একই সুরে সুর মিলাচ্ছে দুজনে। কখনও প্রধান উপদেষ্টা বলছেন, বাংলাদেশের আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ নয়। বা সেই দলকে নিষিদ্ধ করার কোনও পরিকল্পনা নেই সরকারের। অন্যদিকে সেনাপ্রধানও একইভাবে ভাবছেন, খবর সূত্রের। আর এখান থেকে যত গন্ডগোল শুরু। ছাত্র নেতাদের একাংশ এবং বাকি উপদেষ্টা মন্ডলী এতদিন সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমিয়ে রেখেছিল। এবার ইউনূসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরাতে দেখা যাচ্ছে।
এরপরই সেনাপ্রধান সেনাবাহিনীকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে রাস্তায় নামিয়েছেন। কঠোর হাতে দমন করার চেষ্টা করছেন। অনেকেই বলছেন সেনা শাসন জারি হতে পারে। তবে ওয়াকিবহুল মহলের একাংশ বলছে, যদি সেনা শাসন জারি করার কোন পরিকল্পনা থাকতো সেনাপ্রধানের, তাহলে অন্তর্বর্তী কালীন সরকার গঠন না করে নিজের হাতেই গোটা দেশটাকে রেখে দিতেন। কারণ হাসিনা সরকারের পতনের পর বেশ কয়েকদিন সেনা হাতেই ছিল দেশ। তবে এটাও অনেকে বলছেন, পরিস্থিতি বদলেছে। ইউনূসের জমানার ব্যর্থতা সামনে চলে এসেছে। হলে এখন সেনাপ্রধান সেই দায়িত্ব গ্রহণ করলে, সেটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে প্রবলভাবে সম্ভাবনা এটা, এই পরিস্থিতিতে যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী সরকার গঠনের জন্য একটা নির্বাচনের চাপ সৃষ্টি করা হবে সেনানিবাস থেকে। কারণ পূর্বের কিছু সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎকার দেখলে বোঝা যাবে, তাই সরকার গঠনের জন্য কতটা মরিয়া ওয়াকার। কাজেই কোন একশন শুরুর আগে নির্বাচনী চাপ দিতে পারেনি সেনাপ্রধান। তবে ইউনূসের উপর অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর চাপ রয়েছেই। এবার সেনাপ্রধান কঠোর হলে, সামলাতে হিমশিম খেতে হবে তাকে। অন্যদিকে ফাঁদে পড়বেন অন্যান্য উপদেষ্টা মন্ডলীয় ছাত্র নেতারা। ঠিক যেমনটা কয়েক মাস আগে বলেছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।
আর সেই অ্যাকশন শুরু হয়ে গিয়েছে, অন্তত ভাইরাল ভিডিও থেকে বোঝা যাচ্ছে।












Discussion about this post