অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সংগঠন ১,৬০৪টি সড়ক অবরোধ করেছে। মোট ১২৩টি সংগঠন এসব অবরোধের পিছনে রয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী স্বয়ং। তাঁর দাবি, একটা রাস্তার একটা কোণা ব্লক হলেই পুরো ঢাকা শহর তার প্রভাব অনুভব করে। এভাবে সড়কে আন্দোলন করা মানেই জনগণের ভোগান্তি বাড়ানো। সেই সঙ্গে তাঁর স্বিকারোক্তি, আমাদের কাছে কোনও সংগঠন অনুমতি নিতেই আসে না।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যে ঐক্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা এখন নেই। যদিও প্রতিবারের মতো এবারও তিনি বাংলাদেশের বর্তমান অরাজক পরিস্থিতির জন্য আওয়ামী লীগকেই দোষারোপ করেছেন। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী দাবি করেন, বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর কথায়, কোনও দেশে জরুরি অবস্থা জারির জন্য তিনটি বিষয় জরুরি। প্রথমটি হল যুদ্ধ পরিস্থিতি, দ্বিতীয়টি বিদেশী শক্তির প্রভাব এবং তৃতীয়টি হল দেশের অভ্যন্তরে অত্যন্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। বাংলাদেশে এখন শেষের দুটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে ছাত্র আন্দোলন চলছে। শিক্ষক, অধ্যাপক, সাংবাদিকদের সন্ত্রাসবিরোধী ধারায় অভিযুক্ত করা হচ্ছে। তাতেই বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশ ঠিক কোন পথে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের মতো প্রাচীন রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এখন দাবি উঠছে জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হোক। এটা কোনও সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে তা অনায়াসে হচ্ছে।
বাংলাদেশের কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকও কয়েকদিন ধরে বলছেন এই মুহূর্তে দেশে জরুরি অবস্থা জারির মতো পরিস্থিতি পুরোদমে রয়েছে। কিন্তু জরুরি অবস্থা জারি করতে গেলে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষর লাগে। যিনি এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নেই। যদিও এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির রয়েছে। তিনি যদি মনে করেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তাহলে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা জারি করতেই পারেন। আর সেটা হলে বেশ কয়েকটি নাগরিক অধিকার উঠে যাবে সংবিধান অনুসারে। এমনকি তিনি সব কটি মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে পারেন। যা হলে, বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা, আন্দোলনের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকারগুলি লুপ্ত হবে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের প্রধান বিচারপতি, প্রধান উপদেষ্টা এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর থেকেই বাংলাদেশজুড়ে শুরু হয়েছে নানান জল্পনা। যার মধ্যে জরুরি অবস্থা জারিও রয়েছে, আবার মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা কেড়ে আরেকটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে নির্বাচন করানোর গুজবও রটেছে। এখন দেখার, বাংলাদেশের ভাগ্যে কি লেখা আছে।












Discussion about this post