বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ প্রায়শই যুদ্ধের হুশিয়ারি দিয়ে থাকে ভারতকে। বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশেই যেমন সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে যুদ্ধের জন্য মহড়া শুরু হয়েছে তেমন তরুণ প্রজন্মকেও সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে উদ্যোত সেদেশের সরকার।
এই আবহেই কলকাতার দোরগোড়ায় এসে পৌছালো বাংলাদেশের নৌবাহিনীর নতুন যুদ্ধ জাহাজ। কলকাতার সীমানায় এসে পৌঁছানো এই জাহাজটি হল বানৌজা বিসখালী। বাংলাদেশের সামরিক শক্তিতে এই জাহাজটির গুরুত্ব অপরিসীম বলেও জানিয়েছেন নৌবাহিনীর প্রধান জেনারেল অ্যাডমিনাল এম নাজমুল হাসান।
বিশখালী নদীর নামে নামকরণকৃত বানৌজা বিশখালী জাহাজটি ১৯৭৮ সালে নৌবাহিনীতে কমিশনিং এর পর থেকে সকল অপারেশনাল কর্মকাণ্ডে সফলতার সাথে অংশগ্রহণ করেছে। দীর্ঘ ৩৬ বছর দেশের জলসীমার সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকার পর জাহাজটি ২০১৪ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী হতে ডি-কমিশন করা হয়। ১৯ মে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৫টি পেট্রোল ক্রাফট নির্মাণের জন্য প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তর এবং খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এর মধ্যে প্রায় ৫৩২ কোটি টাকার জাহাজ নির্মাণ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৫১.৬ মিটার , প্রস্হ ৭.৫ মিটার এবং গভীরতা ৪.২ মিটার।এছাড়াও জাহাজটি ৩৩ জন সদস্য নিয়ে একনাগাড়ে ৭ দিন অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম। সেন্সর এবং কার্যপদ্ধতি হিসেবে জাহাজটিতে রয়েছে- ১টি জেআরসি জেএমএ-৫২১২-৪বিবি এক্স-ব্যান্ড র্যাডার,
১টি হাল মাউনন্টেড মাল্টি-বিম ইকো সাউন্ডার,
১টি হাল মাউনন্টেড সিঙ্গেল-বিম ইকো সাউন্ডার,
১টি ডিজিপিএস রিসিভার,
১টি সাউন্ড ভেলোসিটি প্রোফাইলার,
১টি চৌম্বকীয় কম্পাস
১টি জিপিএস রিসিভার
১টি ইকো সাউন্ডার
১টি রাডার অ্যাঙ্গেল ইন্ডিকেটর
১টি ভিএইচএফ সেট
১০টি ভিএইচএফ ওয়াকিটকি সেট।
জাহাজটির আকার আয়তন অপেক্ষাকৃত ছোট হলেও এর সক্ষমতা আধুনিক বিশ্বে ব্যবহৃত সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ। শত্রু জাহাজ মোকাবেলা, চোরাচালান রোধ, জলদস্যূতা দমনে জাহাজটিতে রয়েছে-
১টি ৪০মিমি বোফোর্স গান,
২টি ১২.৭মিমি সিআইএস-৫০ বিমান বিধ্বংসী মেশিনগান,
সামুদ্রিক মাইন,
৬টি কিউডব্লিউ-২ ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণ যোগ্য বিমান-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র।












Discussion about this post