বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যদি গুরুতর কোনও ঘটনা ঘটে তাহলে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বাসভবন যমুনায় মেলার আয়োজন করেন। অর্থাৎ, তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের চায়ের আমন্ত্রণ জানান। তাঁদের থেকে নানান পরামর্শ শোনেন, এবং হাসিমুখে তাঁদের বিদায় দেন। কিন্ত আজ পর্যন্ত কতগুলি পরামর্শ তিনি গ্রহণ করেছেন, বা সেই পরামর্শ মেনে তিনি কোনও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল। গত জুন মাসেই এক বিএনপি নেতা সরাসরি অভিযোগ তুলেছিলেন, মুহাম্মদ ইউনূস এই সমস্ত বৈঠকে সমস্ত কথাই মন দিয়ে শোনেন, তারপর মিস্টি হাসি দিয়ে বিদায় জানান। এবারও গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নূরকে মারধরের ঘটনায় বাংলাদেশে উত্তপ্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যেমন ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনই জাতীয় পার্টিকে করার দাবিতেও উত্তাল হচ্ছে বাংলাদেশ। এই আবহে ফের দশটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু এর পরেও যে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হবে, এ কথা হলফ করে বলতে পারছেন না অতি বড় সরকারপন্থীও।
গত রবিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে বৈঠক হল। জাতীয় নাগরিক পার্টি, জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশ এবং বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে আলাদা আলাদা আলোচনা করেন মুহাম্মদ ইউনূস। অনেকেই ভেবেছিলেন, নূরের ওপর হামলার ঘটনার পর জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে একটা ঐক্যমত তৈরি হয়ে যাবে। কিন্তু আশ্চর্ষের বিষয় হল, ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে কেউই সেরকম দাবি করেননি। উল্টে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল আলমগীর জানিয়েছিলেন, জাতীয় পার্টি নিয়ে এই বৈঠকে কোনও আলোচনাই হয়নি। অর্থাৎ, ঐক্যমত তো দূর অস্ত, আলোচনাও হয়নি। তাহলে যমুনায় কিসের আলোচনা হল? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে বাংলাদেশের নির্বাচন করা নিয়ে যে কথা চলছে তাতে মোটেই খুশি নন জামাত ও নাগরিক পার্টি। আর এই দুই শক্তিই মূলত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিঁড়দাঁড়া। লন্ডনের বহুচর্চিত বৈঠকের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দাবি মেনে রমজান মাসের আগেই নির্বাচন করানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। যা মেনে নিতে পারেনি জামাত, এনসিপি। কারণ তাঁরা এত দ্রুত নির্বাচনের পক্ষপাতী নয়। তাঁদের লক্ষ্য সংবিধান-সহ বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন ঘটানো। তাঁরা মনে করছেন, সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন হলে তাঁরা সরকার গঠন করতে পারবেন না। অপরদিকে বিএনপি মনে করছে, আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে, তাহলে তাঁরাই সরকার গঠন করবে। তারপর তাঁদের সরকার যাবতীয় পরিবর্তন আনবে। ফলে গণঅভ্যুত্থানের ঠিক আগে পর্যন্ত বাংলাদেশে আওয়ামী বিরোধী যে সংগঠনগুলির মধ্যে একটা প্রবল ঐক্যের পরিবেশ ছিল, তা এখন আর নেই। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ফন্দি এঁটেছেন মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর বিদেশি মিত্ররা। সেই কারণেই মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত দৌঁড়ঝাঁপ করছেন রাজধানী ঢাকায়। ইউনূস ও তাঁর দোসররা জানেন, একটা বড় আন্তর্জাতিক চাপ খুব শীঘ্রই আসতে চলেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর। তার আগেই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে।












Discussion about this post