বিগত এক বছরে মামুলি সব কারণ থেকে বাংলাদেশজুড়ে অরাজকতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেই চলেছে। কিন্তু বিগত এক মাসে বাংলাদেশ যেন ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠেছে। এই অশান্তি কখনও রাজনৈতিক, আবার কথনও সামাজিক। ঠিক এই আবহেই গত রবি ও সোমবার বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান পরপর সাক্ষাৎ করলেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে। যা নিয়ে যেমন রাজনৈতিক কৌতুহল বেড়েছে, তেমনই গুজব ছড়িয়েছে গোটা বাংলাদেশে। গুজবের সুর অভ্যুত্থান। আবার বাংলাদেশে একটি অভ্যুত্থান হতে চলেছে বলেই রটে গিয়েছে। এই আবহে মুখ থুলেছেন সেনাপ্রধান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ় জামান পরামর্শ দিয়েছেন, ‘গুজবে কান দেবেন না। সেনাবাহিনী সরকারের পাশে রয়েছে, থাকবে। আবার ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন, ‘নির্ধারিত সময়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন করা হবে। জনগণ যেন গুজবে কান না দেন। অন্যদিকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে সমর্থন নয়, বরং জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোই মার্কিন সরকারের অবস্থান। যা গুজব রটছে তা সত্যি নয় বলেই দাবি করেন মর্কিন রাষ্ট্রদূত। অর্থাৎ গুজবই এখন বাংলাদেশের মূল আলচ্য বিষয়।
সেনাপ্রধানের পদক্ষেপের বিষয়ে সোমবার বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখার পক্ষে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ‘সৌজন্যসাক্ষাৎ’ করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। যদিও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে কোনও পক্ষই মুখ খোলেনি। তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেন তিনি পরপর গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন। যদিও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তরফে একটা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী প্রধান সম্প্রতি তাঁর চীন সফরকালীন অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠকের অভিজ্ঞতা ও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ তুলে ধরেন। পাশাপাশি, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তা উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। আলোচনায় সেনাবাহিনী প্রধান আশ্বস্ত করেন যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভিজছে না। সেনাপ্রধানের গতিবিধি এবং সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক কাজকর্ম নিয়ে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের জনমানসে। কারণ, প্রধান বিচারপতির গুলশনের বাসভবনে গিয়ে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ করার বিষয়ে সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা চুপ।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল হয়েছে। দু’জন কর্মকর্তাকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ইউনূস বাহিনীর ইয়েসম্যানদেরই গুরুত্বপর্ণ দায়িত্বে নিয়ে আসা হচ্ছে একেক করে। প্রসঙ্গত, গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হককে ভয়ানক ভাবে মারধর করার সঙ্গে নবম পদাতিক ডিভিসনের সেনাদের যোগসাজস রয়েছে বলে দাবি। বদলির অংশ হিসেবে বগুড়ার এরিয়া কমান্ডার ও জিওসি মেজর জেনারেল আসাদুল হককে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার করা হয়েছে। এই আবহে সেনাবাহিনীর এই রদবদলে কিছু রাজনৈতিক দলকে সন্তুষ্ট করা চেষ্টা দেখা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, গোপালগঞ্জে আওয়ামি লিগ কর্মীদের উপরে ভয়ানক নির্যাতন ও খুনে অভিযুক্ত যশোরের দায়িত্বে থাকা সেনাকর্তাকে কেন সরানো হল না? সূত্রের খবর, মুহাম্মদ ইউনূসের কাজকর্ম নিয়ে সেনাবাহিনীর অন্দরেই একটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। যা সামাল দিতে আসরে নামতে হয়েছিল সেনাপ্রধানকে। এবারও কি তিনি সেই চেষ্টা করছেন, নাকি এবার ইউনূসকে সরিয়ে নিজেই অন্য একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বসানোর পরিকল্পনা করছেন জেনারেল ওয়াকার। এত কিছুর পরও গুজব কিন্তু মিটছে না।












Discussion about this post