বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান দেখা করেছেন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে। যেটা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশে। এরমধ্যে আবার সেনাপ্রধান রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে দেখা করলেন। পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা মহম্মুদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করলেন। একইদিনে দুই জনের সঙ্গে দেখা করলেন সেনাপ্রধান। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দু জনের সঙ্গে যখন সেনাপ্রধান বৈঠক করলেন, তাতে দেশে যে কিছু একটা ঘটতে চলেছে, সেটা বলাই বাহুল্য। কেন রাষ্টপতির সঙ্গে দেখা করলেন সেনা প্রধান? সেই প্রশ্ন যেমন উঠছে, ঠিক একইভাবে এই বৈঠকগুলি কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছে কিনা, সেটা নিয়েও জল্পনা ছড়িয়েছে। সবথেকে আলোচনা চলছে, সেনাপ্রধান নাকি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে দেশে জরুরি অবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু সেই বাস্তবতা কি আদেও রয়েছে বাংলাদেশে? পরিস্থিতি কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে?
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যে বৈঠক করেছেন, সেটা নিয়ে নানারকম আলোচনা চলছে। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ব্যাখা করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তিনি বলতে চেয়েছেন, প্রধান বিচারপতি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে অবসরে চলে যাচ্ছেন। এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হলে তার প্রধান হবেন সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। সেক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার পরিকল্পনা করছেন সেনাপ্রধান। এমনটাই মন্তব্য করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
এদিকে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, সেনাপ্রধান বৈঠক করেছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে। এবং বলা হয়েছে, সেনাপ্রধানের যে চীন সফর, সেটার বিষয়ে অবগত করার জন্য এই দুজনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর এই বৈঠক ঘিরে নানা রকম বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশের বহু মানুষ।
কেউ বলছেন, সেনাপ্রধান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে, দেশে জরুরি অবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছেন। মহম্মদ ইউনূসকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু সেই পরিস্থিতি কি তৈরি হয়েছে দেশে? কারণ সেনাপ্রধান এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফাটল তৈরি হয়েছিল। এমন একটি বিষয় উঠে এসেছিল। কিন্তু পরে দেখা গিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের যে দূরত্ব, সেটা একেবারেই নেই। তাহলে কেন সেনাপ্রধান জরুরি অবস্থা চালু করাবেন রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে? এমন প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন তো উঠবেই।
অন্যদিকে আদেও রাষ্ট্রপতির জরুরি অবস্থা জারি করার অবস্থা রয়েছে কিনা, সেটা একবার জানা উচিত। কি বলছে সংবিধান? জানা যায়, মন্ত্রী পরিষদের অনুমোদন এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুসাক্ষরের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন। আর না হলে, জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন না। অন্যদিকে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে বাংলাদেশে, সেখানে সংবিধান অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সমান কিনা, সেটা ঘিরেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আবার অনেকে বলছেন, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী। ফলে রাষ্ট্রপতি নিজেই পারবেন, জরুরি অবস্থা চালু করতে। এরকম ব্যাখ্যা এবং পাল্টা ব্যাখ্যা চলছে বাংলাদেশে।
সেনাবাহিনীর তরফ থেকে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়ার পরও কেন এই বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে, সেটাই বড় প্রশ্ন।












Discussion about this post