ফের নতুন করে খবরের শিরোনামে ধানমন্ডি ৩২। গত বছর বঙ্গবন্ধুর এই বাড়িটিকে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছিল ছাত্র জনতা। তবে এখনও কিছু অংশ অক্ষত রয়েছে। গত বছর বেশ কিছু মুজিবপ্রেমী ১৫ই আগস্ট ওই বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু এবার সরকারের কাছে খবর, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া মুজিবের বাড়িতে আরও বহু সংখ্যক মানুষ এবারে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে যাবেন। আর তা ঘিরেই সরকারের অন্দরে বাড়ছে আতঙ্ক।
গত বছর ৫ই অগাষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। তখনই ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির উপর হামলা চালানো হয়। কিন্তু তারপরও অক্ষত ছিল। এরপর ৫ই ফেব্রুয়ারি আগাম ঘোষণা দিয়ে ফের বাড়িটিকে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। উন্মুক্ত কিছু ছাত্র জনতা ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছিল পুরো বাড়ি। অগ্নি সংযোগ করা হয়েছিল। সেদিন উন্মুক্ত ছাত্র জনতার কার্যকলাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছিল, পুলিশ থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়িটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে এখনও সামান্য কিছু অংশ টিকে রয়েছে। এবার সেটা নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে।
এদিকে ১৫ ই আগস্ট আসন্ন। প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাষ্ট দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি তথা, দেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিক্ষুব্ধ সেনা, এই বাড়িতে সলতিবার সহ তাকে হত্যা করেছিল। এমনকি ধানমন্ডি ৩২ বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম, বাংলাদেশ গড়ার ইতিহাস। এটি এখন বাংলাদেশের জাতীয় সৌধ।গত বছর ওই দিনে বেশ কিছু আওয়ামীলীগ সমর্থক ওই বাড়িতে গিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন সরকারের অগোচরে। হাজির হয়েছিলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মত মানুষের। তবে এবার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ওই বাড়িটিতে বহু মানুষ গিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন বলে সরকার সূত্রে খবর। জানা যাচ্ছে, এবছর জেডাই খান পান্না এবং মুক্তি যোদ্ধারা মিলে মঞ্চ ৭১ তৈরি করেছেন। তারা ডাক দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, প্রত্যেকে ধানমন্ডিতে আসতে হবে মানে নেই। কিন্তু যে যেখানে পারেন শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানান। এখনো পর্যন্ত যা খবর, বিপুল পরিমাণে সারা মিলেছে। তবে প্রকাশ্যে যারা ধানমন্ডির বাড়ির উদ্যেশ্যে যাবেন, তাদের ইউনূসের প্রশাসন আটকাবে। কারণ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওই বাড়ি এখন সরকারের অধীনে এবং সরকারের ঘেরাটোপে রয়েছে। অর্থাৎ যারা যাবে তাদেরকে আটকে দেবে সরকার। যারা মুজিবরকে শ্রদ্ধা জানানো বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে। সেই আশঙ্কায় করছে ইউনূসের সরকার।
এদিকে ক্রমাগত সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে, ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনীর জন্য ডাক দেওয়া হচ্ছে। ডাক দিচ্ছেন আওয়ামীলীগ সমর্থক বা বঙ্গবন্ধু প্রেমেই মানুষেরা। ফলে আসন্ন ১৫ ই আগস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশাসন কি পদক্ষেপ করে, কি ধরনের পদক্ষেপ করে, সেটাও একটি দুশ্চিন্তার কারণ। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post