পদ্মাপারে হাওয়া মোরগের ঝুঁটি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে। শেষ হয়েছে দুঃশাসনের যুগ। ১৮ মাস পরে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গণতন্ত্র। সরকারে বিএনপি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন। এই পালাবদলে সব থেকে বেশি বেকায়দায় পূর্বতন সরকার। দেশ ছেড়ে পরদেশী হওয়া ছাড়া তাদের সামনে যে আর দ্বিতীয় কোনও রাস্তা খোলা নেই, সেটা দিনের আলোর মতো স্বচ্ছ। মানে যঃ পলায়তি সঃ জীবতি। কারণ, দেশে থাকলে জেলের ঘানি আর সেখানকার ভাত খেতে হবে। দেশে থাকলে জনতার থেকে পঁচা ডিম, বাসি রুটি, আরও অনেক কিছু উড়ে আসতে পারে। এই দেড় বছরে বাংলাদেশকে যে ইউনূস দায়িত্বের সঙ্গে পদ্মায় ডুবিয়ে দিয়েছেন, সেটা তাঁরা এখন বুঝেছেন। যদি বুঝতে অনেক দেরি হয়ে গেল। জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন সরকার প্রধান। বলেছিলেন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করবেন ন্যায়ের শাসন। দেশের উন্নতির চাকা তড়তড়িয়ে চলবে। এক কথায় তিনি এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে দেবেন।
নতুন বাংলাদেশ তৈরি করেছেন ঠিকই। সেই বাংলাদেশ পিছনের দিক দিয়ে সবার আগে। অর্থনীতি ডুবেছে। একটার পর একটা কারখানা বন্ধ হয়েছে। ব্যবসায় মন্দা। কর্মসংস্থান নেই। ফলে, ২৪-য়ে জুলাই অগাষ্টে যারা সরকার বদলের জন্য পথে নেমেছিল, তারা এখন ইউনূস এবং তাঁর সেই বিখ্যাত “কৌরববাহিনীর” যোদ্ধাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেছে। সেই খবর তাদের কানে চলে গিয়েছে। তাই যে কোনও মূল্যে দেশ ছাড়ার জন্য তারা তৈরি। এ গলি, ওই গলি, তস্য গলি দিয়ে কোনওরকম বিমানবন্দরে পৌঁছানো। আর সেখানে থেকে বিমান চেপে গন্তব্যের উদ্দেশ্য উড়ে যাওয়া।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান তিনি তাঁর ফেসবুকে পেজে একটি পোস্ট করেন। সাংবাদিকের দাবি, উপদেষ্টাদের ঘনিষ্ঠমহল থেকে এই তথ্য তিনি পেয়েছেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসার দিন দেশ ছাড়েন নেদারল্যান্ডসের নাগরিক ফয়েজ তৈয়্যব। সকাল ১০টা নাগাদ এমিরেটস এয়ারলাইন্সের বিমান EK 583-য়ের বিমানে চেপে তিনি বিদেশ চলে গিয়েছেন। সূত্রের খবর ঢাকা ছাড়ার সময় তিনি নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্ট NMF001DHF ব্যবহার করেছেন। দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন ইউনূসের প্রেস সচিব তথা বাংলাদেশ মব মুলুকের উদ্যোক্তা তথা জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর শীর্ষনেতা শফিকুল আলম। আরও কয়েকজন দেশ ছাড়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম হয়ে দাঁড়িয়েছে – নিঃশেষে প্রাণ কে করিবে দান? মানে, কে আগে দেশ ছেড়ে পালাবে? যদিও শফিকুল আলম গত ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি উপদেষ্টাদের “দেশের গর্বিত সন্তান” বলে অভিহীত করেন। শফিকুল বলেন, উপদেষ্টারা কেউ দেশে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন না। তারা দেশে আছেন। দেশে থাকবেন। নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তারা উপস্থিত থাকবেন। ,
এদিকে, আলজাজিরার সাংবাদিক তার পোষ্টে লিখেছেন, ওই দুই উপদেষ্টার মধ্যে একজন দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে চায়না ইস্টার্নের ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন। একই দিনে সন্ধ্যা পৌনে সাতটা নাগাদ এমিরেটসের একটি বিমানে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ তিনি ওই দুই উপদেষ্টার নাম প্রকাশ করেননি। জুলকারনাইন তার পোস্টে এই দেশত্যাগের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, যথাযথ অডিট ক্লিয়ারেন্স এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়া যেন তাদের দেশ থেকে চলে যেতে দেওয়াটা ঠিক হবে না। সাংবাদিক এটাও বলেছেন, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার স্বার্থে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলা উচিত।












Discussion about this post