বাংলাদেশে কি ফের জুলাই বিপ্লব নাকি দেশে ফিরছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা? এই মুহূর্তে বাংলাদেশে অস্থির পরিস্থিতি। ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে বোঝা যায় আসলে বড় কিছু ঘটতে চলেছে দেশের অন্দরে। কারণ গোপালগঞ্জের ঘটনার পর শেখ হাসিনার যে হুংকার, তাতে অনেকেই বলছেন, ইউনূসের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন সময় জল্পনা তৈরি হয়েছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরও যেভাবে সক্রিয় হচ্ছে, তাদের শেখ হাসিনার ফেরার শুধু সময়ের অপেক্ষা। এছাড়াও মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দেশের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে সামাজিক কাঠামো দুর্বল হয়। আর এতেই বিভিন্ন সময় ক্ষুব্ধ হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তবে তার ক্ষোভের বহির্প্রকাশ দেখা গিয়েছে শুধু ডিজিটাল মিডিয়া। তার অডিও বার্তা শোনা গিয়েছে একাধিকবার। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ যে সক্রিয় হচ্ছে, সেটা বোঝা গেল গোপালগঞ্জের ঘটনায়। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যারা মুখ তাদের পিঠে ভর করেই ইউনুস ক্ষমতা পেয়েছেন। পরবর্তীতে তার গদিতে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি দেখা গিয়েছিল, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে মহম্মদ ইউনূসের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এর পিছনের কারণ সাধারণ মানুষের গণতন্ত্র ফিরে পাওয়া। যেটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে হয়নি। উল্টে বিপদে পড়েছে সাধারণ জনগণ। নির্বাচনকে ইস্যুকে কেন্দ্র করেই মূলত যমুনা এবং সেনানিবাস এর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। সংস্কার কৃষকের হাতিয়ার করে নির্বাচন করাতে নারাজ মহম্মদ ইউনূস। তিনি পরের বছর পড়তে চাইছেন। এদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। এই ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে এক বছরের এক্সটেনশনের জন্য সমস্যা হতে পারে। সেইজন্যই ইউনূসকে আগেই সরিয়ে দিতে চাইছেন ওয়াকার।
রাজনৈতিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মধ্যে যে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটা একদিকে তৈরি করেছে ইউনূসের সিন্ডিকেট আর অন্যদিকে ওয়াকারের সিন্ডিকেট। ইউনূসকে মদত দিচ্ছে জামাত, এনসিপির মত দলগুলি। এদিকে একটি কূটনৈতিক চাল চেলেছেন ওয়াকার উজ জামান। প্রাথমিকভাবে তিনি একটি সংবিধান মনে করিয়ে দিচ্ছেন। যে সংবিধান আওয়ামী লীগের সময় ছিল, বলা ভালো ওয়াকার উজ জামানের সময় ছিল। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে থেকে কোন সরকারই থাকবে না। সেটি অন্তর্বর্তী সরকারও নয়। সেক্ষেত্রে গদি ছাড়তে হবে ইউনূসকে। যদি নির্বাচন এপ্রিল বা ফেব্রুয়ারিতে হয়, তবে ডিসেম্বর এর আগেই তাকে গদি ছাড়তে হবে। এদিকে ইউনূস না থাকলে, তার এক্সটেনশন বাড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে।
এদিকে ইউনূস বুঝতে পেরে, নিজের গদি বাঁচিয়ে রাখার জন্য একটি চাল চেলেছেন। অনেকেই বলে থাকেন, ওয়াকার উজ জামান হাসিনাপন্থী। সেই সেনাপ্রধান ভারতের সাহায্য নিয়ে হাসিনাকে ফেরাতে পারেন। যদি ভারতের সাহায্য নিয়ে শেখ হাসিনা ফিরে আসে, তবে ইউনূসের কি হবে? তখন অত্যন্ত বিপদে পড়বেন বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা। তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ইউনূস পাল্টা চাল চেলেছেন। হতে পারে, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা গোপালগঞ্জে গিয়ে নিজের কর্মসূচি পালনের নামে কবর ভাঙতে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর। এদিকে অভিযোগ উঠে গেল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। যে দলটি নাকি নিষিদ্ধ, যে দলের বড় কোন মুখ নেই দেশে, সেই দল নাকি হামলা চালিয়েছে এনসিপির উপর। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যাদের কোন ঢাল, তলোয়ার নেই, তারা কিভাবে এই ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হবে? আর যদি সত্যি সত্যি আওয়ামী লীগ এনসিপির উপর হামলা করে, তাহলে তো ফের জুলাই বিপ্লব হতে চলেছে? যে জুলাই বিপ্লব হতে পারে, ইউনূসের আমলের অরাজক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে, ছাত্র নেতারের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। কারণ গত বছরের জুলাই আন্দোলন ছোট ছোট আন্দোলন থেকে বৃহৎ আকার ধারণ করেছিল। তাহলে কি এই পরিস্থিতিতে ফের এরকম একটা ঘটনা ঘটতে চলেছে? তবে শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারে। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেটা যদি ঘটে থাকে, এই সম্ভাবনার তত্ত্ব সত্যি হয়ে থাকে, তবে ইউনুস আরও বিপদে পড়বেন।












Discussion about this post