বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে গত ১৭ই নভেম্বর মৃত্যুদন্ডের সাজা ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সাজা ঘোষণার প্রায় নয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। মজার বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত আদেশনামাতে বিচারকরা স্বাক্ষর করেননি। যা ঘিরে রহস্যের দানা বেঁধেছে। তবে কি ভিতরে ভিতরে কিছু চলছে? গোপনে খেলা চলছে?
প্রথম থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কাজ নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছিল। তবে শুধু মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তার সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধেও ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এমনকি সাবেক পুলিশের আইজিপি, যিনি রাজসাক্ষী হয়েছিলেন, তাঁকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেইদিনই ঘোষণা করা হয়েছিল ২৫৬ পৃষ্ঠার রায়। পূর্ণাঙ্গ রায় তৈরি হওয়ার পর সেটা ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে পড়ে শোনানো হয়েছে। কিন্তু তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে যে সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করা হয়েছিল, সেই বিচারপতিরা এখনও স্বাক্ষর করেননি বলে জানা যাচ্ছে। এরআগে কিছু উদাহরণ দেখলে জানা যায়, ৫৬ টি মামলার রায় হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এই ৫৬ টি রায় ঘোষণার দিনই বিচারপতিরা সাক্ষর করেছেন। অর্থাৎ এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি, যে বিচারকরা স্বাক্ষর করেননি। বিচারকদের সাক্ষরের ক্ষেত্রেই এই রায়ের কার্যকারিতা সম্পন্ন হবে। তাহলে কেন এক্ষেত্রে সাক্ষর করা হল না? প্রশ্ন উঠছে। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যবে থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তবে থেকেই একাধিক অস্বাভাবিক ঘটনা সময় এসেছে। কখনও সাক্ষি দেওয়া ক্ষেত্রে আবার কখও শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। এমনকি শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিতে চাওযা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায়, সরকার ঠিক করে দেয় আইনজীবী। শুধু এই ঘটনা নয়, আরও একটি ঘটনা সামনে এসেছে। সেটা হল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল-সহ তিনজনের রায় ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বিচারকদের ছবি। এইবার সেই ছবি মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তরফে। একইসঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আদেশের সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, মুক্ত চিন্তার প্রকাশ ও বাক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সবাই স্বাধীন। তবে সেটা দেশের প্রচলিত আইনের মধ্যে থেকে ও অবমাননা না করে হতে হবে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, জনরোষ তৈরি হচ্ছে। শেখ হাসিনার বিচারের রায় বাংলাদেশের বহু মানুষ মেনে নিতে পারেনি। পরিস্থিতি খানিকটা অনুকূল হলে তার বহিঃপ্রকাশও হয়তো বেরিয়ে আসতে পারে। তারমধ্যে কেন বিচারকরা সাক্ষর করছেন না আদেশনামাতে? এই প্রশ্নও উঠে আসছে। তবে কি ভিতরে ভিতরে কিছু ঘোঁট পেকেছে? কোন চাপের কাছে মাথা নত করে এই রায়? যদিও এর উত্তর আদেও সামনে আসে কিনা, সেটাই দেখার।












Discussion about this post