১৫ বছর একচ্ছত্র বাংলাদেশ শাসন করেছেন শেখ হাসিনা। যার রাজনৈতিক উত্থানের গল্প শুরু হয়েছিল ১৯৭০ সালের দিকে। বাবার নির্মম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সেখান থেকেই ক্ষমতার শীর্ষে ওঠা। আবার সেখান থেকেই অবিশ্বাস্য পতন। দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া শেখ হাসিনা এখন ভারতে অবস্থানরত। এদিকে মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে তিনি তো দেশে নেই। দেশে ফিরলে তবেই এই রায় কার্যকর হতে পারে। কিন্তু আদেও কি শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে ভারত? সেটা নিয়েই নানা মত উঠে আসছে কূটনৈতিক মহলে। অনেকে বলছেন, শেখ হাসিনার উপর মৃত্যুদণ্ড রায় কার্যকর হওয়াতে ভারত বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রশ্ন একটাই, দেশে কি ফিরবেন শেখ হাসিনা?
গত বছর কোটা বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। ধীরে ধীরে ছাত্রদের সেই আন্দোলন হাইজ্যাক করে স্বার্থান্বেসী গোষ্ঠী। এরপর তাদের মতোই আন্দোলন চলতে থাকে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সরকার উৎখাত আন্দোলনে পরিণত হয়। পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের। দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন তিনি এবং তাঁর বোন শেখ রেহেনা। এছাড়াও দেশ ত্যাগ করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তবে এই প্রথমবার নয়, এর আগেও ভারতের আশ্রয়ে ছিলেন হাসিনা-সহ তাঁর বোন। ১৯৭৫ সালের অগাস্টে ঢাকার বাসভবনে বিক্ষুব্ধ সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, শেখ হাসিনার মা ও তিন ভাই। সেই সময় দেশে ছিলেন না শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা। তাঁরা ছিলেন পশ্চিম জার্মানিতে। এরপর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারতে দুই বোনকে নিয়ে এসে আশ্রয় দেন। এরপর ১৯৮১ সালে ফিরে আসেন বাংলাদেশে। রাজনীতির সাত পাঁচ বুঝে ক্ষমতা হাতে নেন হাসিনা। তারপর থেকে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু। স্বাধীনতা মুক্তি যুদ্ধকে প্রত্যক্ষ, বাবার হত্যাকাণ্ড, গোটা পরিবার শেষ হয়ে যাওয়া, তাঁদের অন্যদেশে আশ্রয়….এই সমস্ত অভিজ্ঞতাকে চাক্ষুষ করে পোক্ত দেশনায়ক হয়ে উঠেছিলেন শেখ হাসিনা। সেই মতোই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। এমনকি তাঁর আমলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বৃদ্ধি পায়। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পোক্ত হয়। আন্তর্জাতিক স্তরে জায়গা করে নিচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু হঠাৎ করে ছন্দপতন ঘটে ২০২৪ সালে। কোটা বিরোধী আন্দলনো উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। তবে এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে শেখ হাসিনা-সহ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে, তাতে কি আদেও লাভ হল অন্তবর্তীকালীন সরকারের? এখন যে যে অপরাধ করছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রশাসন, সেটাও তো তবে মানবতা বিরোধী অপরাধ হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান সরকারের কার্যক্রম নিয়ে কোনও হেলদোল নেই বাংলাদেশে। এদিকে বারবার অডিও বার্তাতে শেখ হাসিনা বলছেন, তিনি দেশে ফিরলে সমস্ত অপরাধের বিচার হবে। এদিকে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামী বছর ফেব্রুয়ারীতে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে আগেই। ফলে বলাই যায়, শেখ হাসিনার দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু ভারতে থেকে দেশে তার দলের অংশগ্রহণের জন্য লড়াই করবেন হাসিনা? অনেকে বলছেন, এই প্রথমবার নয়, এর আগেও কঠিন সময় এসেছিল তাঁর জীবনে। এবারও তিনি কঠিন সময় পার করবেন। এদিকে ভারতও সবসময়ই পাশে রয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ড হাসিনার বিরুদ্ধে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ভারত ফেরত দেবে কিনা, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। এখন দেখার, শেষমেশ পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়!












Discussion about this post