তুলসি গ্যাবার্ডের ভারত সফর। ঘুম উড়ালো ইউনূসের। কারণ মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল বাংলাদেশের চিত্রটা। ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল যে কোনরকম ধাঁধা না রেখে সমস্ত ধোঁয়াশা কাটিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলসির টেবিলে এনে ফেলবেন সেটা বোধহয় কল্পনাও করতে পারেননি মহম্মদ ইউনুস এবং তার উপদেষ্টা মন্ডলী। আর সেটার জেরেই হাসফাঁস করছেন নোবেল জয়ী। এই পরিস্থিতিতে কি করবেন ভেবে না পেয়ে, ঢাকার তরফে দেওয়া হল বিবৃতি। বলা হল, তুলসী গাবার্ড ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যা যা বলেছেন তা ভিত্তিহীন। এই ভুল তথ্য পেয়েছেন ভারত থেকে। বাংলাদেশের তরফে সেটা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হল। এই একই কাজটা করেছিলেন, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ তুলে ২৯ মিলিয়ন ডলারের কথা বলেছিলেন। তখনও ভারতকে দোষারোপ করেছিল ঢাকা। অর্থাৎ এখন চক্ষুশূল ভারত। কিন্তু এতে করে নিজেদের বিপদ নিজেই ডেকে নিয়ে আসছে মোহাম্মদ ইউনুস, সেটা তারা বুঝতে পারছেন না। তুলসি গ্যাবার্ড মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান, আমেরিকার 18 টি দফতর তার হতে। তিনি শুধুমাত্র ভারতের কথা শুনে এমন মন্তব্য করছেন? এটা কি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য? প্রশ্ন তো থাকছেই। এখন বাংলাদেশ সরকারের হিতে বিপরীত না হয়ে যায়।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা দেখেও না দেখার ভান করেছিল জো বাইডেন প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা নিয়ে অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল ওয়াশিংটনে তরফে। এইবার পদ্মা পারে হিন্দু নির্যাতনের ঘটনায় সরব হলেন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড। তাও আবার ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে। নয়া দিল্লিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নিয়ে। তুলসীর আড়াই দিনের ভারত সফরে পর্দা পাড়ের পরিস্থিতি নিয়ে পরিষ্কার হয়ে গেল।
প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎকার করেন তুলসী। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে। এরপরেই তার বৈঠক হয় ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে। সম্ভবত সেই বৈঠক থেকেই বাংলাদেশ বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপরই তুলসী বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়ার সাক্ষাৎকারে পর্দাপারের পরিস্থিতি উদ্বেগ জনক বলে উল্লেখ করেন। এমনকি সেটা নিয়ে চিন্তিত মার্কিন প্রশাসন। এরপরই বাংলাদেশের তরফে বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, তুলসি গ্যাবার্ডের মন্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং বাংলাদেশের সুনামের জন্য ক্ষতিকর। নির্দিষ্ট প্রমাণ বা তথ্যের উপর ভিত্তি করেই মন্তব্য করা হয়নি। উল্টে পুরো বাংলাদেশের জাতিকে অযৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এরপর আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে খেলাফত যুক্ত করা মানে গোটা দেশের মানুষের পরিশ্রম এবং তাদের মানসিকতাকে ছোট করে দেখা। তবে সে দেশ থেকেই যে বিবৃতি দেওয়া হোক না কেন, বিপদে পড়েছেন মোহাম্মদ ইউনুস এবং তার সহযোগীরা। এখন দেখার তুলসি কাঁটা উপেক্ষা করে, দেশকে মার্কিন রোষানাল থেকে বাঁচাতে পারেন কিনা নোবেল জয়ী মোহম্মদ ইউনূস।












Discussion about this post