বাংলাদেশে ঘোষিত হয়েছে জুলাই ঘোষণাপত্র। ৫ই অগাষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের বর্ষপূর্তিতে বহু প্রতীক্ষিত জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। যা ঘিরে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এবার চুপ রইলেন না ভারতে আশ্রিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জুলাই ঘোষণাপত্রের পাল্টা গণ আন্দোলনের ডাক দিলেন। এই আন্দোলন মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে, তার স্বৈরাচার শাসনের বিরুদ্ধ। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, মুজিব কন্যার একশন শুরু হল।
রবিবার আওয়ামী লীগের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা হয় হাসিনার একুশ দফা দাবি। সেগুলির মধ্যে রয়েছে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। বাংলাদেশে সুস্থ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। দেশবাসীকে একত্রিত হয়ে দেশের স্বার্থে ফের মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছেন শেখ হাসিনা। ওই ২১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার জন্য ইউনূস সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিতাড়িত করতে হবে এই সরকারকে।
পাশাপাশি উল্লেখ রয়েছে, ক্ষমতায় আসার পর ইউনূস সরকার অগণতান্ত্রিকভাবে সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে অমান্য করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। শুধু তাই নয়, গোটা দেশজুড়েছে হিংসা ছড়িয়েছে, সেই কারণে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এমনকি ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার পর, একাধিক জনের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়েছে। সেই সমস্ত মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। এমনকি শেখ হাসিনা সহ তার ছেলের বিরুদ্ধে যে ভুয়ো মামলা দিয়েছে, সেখান থেকে অব্যাহতি দিতে হবে তাদের।
ওই ২১ টাকা দাবির মধ্যে রয়েছে, গত বছর ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের বহু নেতা, কর্মীদের বেআইনিভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার করেছে ইউনূসের প্রশাসন। সেগুলি থেকে নিষ্পত্তি দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।
এছাড়াও গত এক বছরে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, করিডোর, বন্দর ইস্যুতে বাংলাদেশের সরগরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মহম্মদ ইউনূস চক্রান্ত করে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। সেটা নিয়েও ওই ২১ দফা দাবির মধ্যে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা, আটক সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়া, বাংলাদেশের উগ্রপন্থীদের কাছ থেকে দ্রুত অস্ত্র উদ্ধার করা। এমনকি গতবছর ১৫ জুলাই, সংখ্যালঘু এবং আওয়ামি লীগ সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা,অগ্নিসংযোগ,লুটপাট সহ অন্যান্য হিংসামূলক ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, তার বিচার।
যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে রয়েছেন। হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যেই একটি বিচার প্রক্রিয়াতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এমনকি তার দলকে নিষিদ্ধ করেছে মহম্মদ ইউনূসের সরকার। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আদতে শেখ হাসিনার ডাকে মানুষ সাড়া দেয় কিনা, সেটাই দেখার। তবে মুজিব কন্যা যে এতকিছুর পরও দমে যাননি, বা মনবল হারাননি, সেটা স্পষ্ট।












Discussion about this post