শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের চিহ্ন প্রায় মুছে গিয়েছে। হাসিনা এখনও ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরাও ভয়ে রয়েছেন। বেশিরভাগই হয় কেউ বিদেশে চলে গিয়েছেন, আর না হলে লুকিয়ে রয়েছেন। তারমধ্যে হাসিনা বিভিন্ন সময় বক্তব্য রেখেছেন, তার দলের নেতা, কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে। সামনে এসেছে হাসিনার ঘোষিত কর্মসূচি। তার মধ্যেই ফাঁস হওয়া একটি অডিওতে হাসিনাকে গাইতে শোনা যাচ্ছে তু চীজ বাটি হ্যায় মাস্ত মাস্ত। তাকে বলতে শোনা যায়, চিল থাকো। আমিও চিল রয়েছি। অর্থাৎ তার দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা থাকার বার্তা দিচ্ছেন তিনি। বলতে শোনা যায়, নিয়মিত তার দলীয় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন হাসিনা। তার বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, তিনি দেশে ফেরা পরিকল্পনার সব কষে ফেলেছেন। কিভাবে আবার সরকারি ফেরা যায় তারও ছক কষা হয়ে গিয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক মহলে ফেব্রুয়ারি মাস খুব চর্চিত হচ্ছে। দীর্ঘ একটি সময় ধরে ফেব্রুয়ারি মাসে ঠাসা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ নেত্রী। ১ থেকে ১৮ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাসিনা ঘোষণা করেছেন, জনসংযোগ, মিছিল, বিক্ষোভের। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে কি আদেও এই কর্মসূচি সফল করতে পারবে আওয়ামী লীগ? আর তা যদি হয়, অত্যন্ত চ্যালেঞ্জ হবে আওয়ামী লীগ দলের জন্য।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এও মনে করছে, শেখ হাসিনা একজন দক্ষ রাজনৈতিকবিদ। তিনি যখন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তিনি ভাল করেই জানেন গোটা দেশের কি পরিস্থিতি। তারপরও এই কর্মসূচি ঘোষণা করার অর্থ হলো, তিনি জল মাচ্ছেন। এখনো পর্যন্ত দেশের অন্দরে আওয়ামী লীগের সমর্থক কর্মী ঠিক কত পরিমাণে রয়েছে। যদি এই কর্মসূচিতে কিছু সংখ্যক মানুষের জড়ো হন, তাহলে প্রমাণিত হয়ে যাবে, বৈষম বিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি পরিকল্পিত এবং ভুয়ো। না হলে তার কর্মসূচিতে এত মানুষ এলো কিভাবে।
এর পাশাপাশি এও মনে করা হচ্ছে, পাঁচ মাস কেটে যাওয়ার পর ফেব্রুয়ারি মাসকেই কেন বেছে নিলেন শেখ হাসিনা? এরমধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ গ্রহণ করেছেন। এটাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয় শেখ হাসিনার জন্য। তবে কি শেখ হাসিনা একেবারে নিশ্চিত, যে তার সঙ্গে আমেরিকা এবং ভারত শক্তিশালী দুটি রাষ্ট্র রয়েছে তার সঙ্গে? সেই কারণেই ফেব্রুয়ারি মাস বেছে নিলেন তিনি? অবশ্যই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেবে ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখের পরবর্তী সময়।












Discussion about this post